- খেলাধুলা

সিরিজ হারেছে বাংলাদেশ

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ। এবার বাংলাদেশ চলছে উল্টো পথে। ২০১৫ সালের আসরে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দেশে ফিরে একের পর এক হোম সিরিজ জিতেছিল ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে। এবার উল্টো পথে হাঁটছে। দেশে ফিরেই শ্রীলঙ্কা গিয়েছে একদিনের সিরিজ খেলতে। সেখানে খোঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না টাইগারদের। একের পর এক করুণ হার। এবারের বিশ্বকাপে যে দলের খেলা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল, সেই দলই শ্রীলঙ্কার মতো দলের সাথে পেরে উঠছে না।

প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল সিরিজে টিকে থাকার। কিন্তু ব্যর্থতার বলয় ছিন্ন করে বের হয়ে আসতে পারেনি। ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনঃচিত্রায়ন করে এবার তারা হেরেছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। সেই সাথে গচ্চা দিয়েছে সিরিজ। ২০১৭ সালে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতা ছিল। একটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার এটি ছিল ষষ্ঠ সিরিজ জয়। বিপরীতে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো সিরিজ জিততে পারেনি। ২০১৭ সাল ছাড়া ২০১৩ সালে তারা আরেকবার তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছিল। সেবারো একটি ম্যাচ ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়াতে ৩১ জুলাই শেষ ম্যাচ শুধুই নিয়ম রক্ষার। তার পরও সেই নিয়ম রক্ষার আড়ালে থাকবে শ্রীলঙ্কার হোয়াইটওয়াশ করা আর বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ এড়ানো!

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে যতটুকু প্রশংসা ছিল তার সবটুকুই ছিল ব্যাটিং কেন্দ্রিক। মূলত সাকিবকে ঘিরেই তা আবর্তিত হয়েছিল। এবার নেই সাকিব। আর সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। বিশ্বকাপে যেখানে তিনশোর্ধ রানের ইনিংস ছিল একাধিক, সেখানে এবার পর পর দুই ম্যাচে ব্যাটে রান নেই ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ৮ উইকেটে করা ৩১৪ রানের জবাব দিতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়েছিল ২২৩ রানে। এবার আগে ব্যাট করে আবারো পড়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে। পরে মুশফিকুর রহীমের অপরাজিত ৯৮ রানের বদৌলতে কোনোরকমে অলআউট এড়িয়ে ৮ উইকেটে করে ২৩৮ রান। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ ছিল সবচেয়ে দুর্বল। তার পরও সেখানে নেই আবার সাকিব-মাশরাফি-সাইফউদ্দিন। ফলে ব্যাটিং আক্রমণের চেয়ে বোলিং আক্রমণ আরো বেশি দূর্বল হয়ে পড়ে। এমন দুর্বল বোলিং আক্রমণ নিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২৩৮ রান ধরে রাখা খুবই কঠিন। পরে হয়েছেও তাই। লঙ্কানরা ৪৪.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৪২ রান করে উতরে যায়। জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারা, দিলশানের অবসরের পর ঘরের মাঠে চার বছর পর একদিনের সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে সবচেয়ে দুর্বলতা ছিল উদ্বোধনী জুটি নিয়ে। কিন্তু সেই দুর্বলতা ডেকে গিয়েছিল সাকিবের নেতৃত্বে ব্যাটিং অর্ডারে বাকিদের সহায়তায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজেও একইভাবে দুই ওপেনার সৌম্য ও তামিম ব্যর্থ। কিন্তু সাকিব না থাকাতে সেখানে কেউ হাল ধরতে পারছেন না। যদিও মুশফিক দুই ম্যাচেই দাঁড়িয়ে গেছেন। প্রথম ম্যাচে সাব্বির রহমানের সহায়তা পেলেও কাল দ্বিতীয় ম্যাচে কারোরই সহায়তা পাননি। ব্যাটিং ব্যর্থতার ক্ষত এতই গভীর ছিল যে ইনিংসের সেরা দুই জুটি গড়ে উঠেছিল মুশফিকের নেতৃত্বে সপ্তম ও অষ্টম উইকেটে! এটি অবাক করার মতোই। মুশফিক সপ্তম উইকেট জুটিতে মেহেদী হাসানকে নিয়ে ৮৪ ও অষ্টম উইকেট জুটিতে তাইজুলকে নিয়ে ৩০ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৪৩ রান। তাইজুলের রান ছিল ৩।

টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দলপতি তামিম ইকবাল নিজে যেমন তা কার্যকরী করতে পারেননি, তেমনি মুশফিক ছাড়া বাকিরাও। শতরানের আগেই টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যান ফিরে যাওয়াতে বড় সংগ্রহের আশা ডুবে যায়। একমাত্র মাহমুদউল্লাহ (৬) ছাড়া তামিম (১৯), সৌম্য (১১), মোহাম্মদ মিঠুন (১২). উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। সাব্বির রহমান (১১) মুশফিকের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের শিকার হন। উইকেটের মড়ক লাগার কারণে দলীয় শতরান আসে ২৮ নম্বর ওভারে। তার পরও বাংলাদেশের শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো পুঁজি গড়ে ওঠে মুশফিকের অপরাজিত ৯৮ রানের সুবাদে। ২৪ ও ৯৫ রানে দুইবার জীবন পাওয়া মুশফিক উদানার করা ৪৯ নম্বর ওভারে দুই চার ও এক ছয়ে ১৬ রান নিয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে যান। শেষ ওভারের আগে তার রান ছিল ৯৫। স্ট্রাইকও ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু ৩ বলে খেলে ৩ রানের বেশি নিতে না পারলে তার আর সেঞ্চুরি করা হয়নি। তার ১১০ বলের ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। এই ইনিংস খেলার মাঝে ব্যক্তিগত ৮ রানের সময় মুশফিক বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে তামিম ও সাকিবের পর ছয় হাজার রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন।

যে উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা রান করতে সংগ্রাম করেছেন, সেই উইকেটে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দ্যে রান সংগ্রহ করেছেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ৩৫, শ্রীলঙ্কা করে বিনা উইকেটে ৬৯। উদ্বোধনী জুটিতে ফার্নান্দো ও দলপতি করুনারতেœ মাত্র ১১.৩ ওভারে ৭১ রান জমা করেন। মারমুখী ছিলেন ম্যাচসেরা অভিশকা ফার্নান্দো। ৭১ রানের মাঝে মিরাজের শিকার হওয়ার আগে করুনারতেœর অবদান ছিল মাত্র ১৫। তার মারমুখী ব্যাটিংয়ের কারণেই দলীয় শতরান আসে ১০০ বলে। সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকা মারমুখী ব্যাটিং করা ফার্নান্দো ৭৫ বলে ২ ছক্কা ও ৯ চারে ৮২ রান করে মোস্তাফিজের বলে তামিমের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন। কুশাল পেরেরাও মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৩৪ বলে করেন ৩০ রান। এই তিন ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার রান সংগ্রহের গতি কমে আসে। এ সময় বাংলাদেশের বোলাররা বেশ জেঁকে ধরেন।

কুশাল মেন্ডিস ও ম্যাথিউস সাবধানি ব্যাটিং করে দলকে ধীরে ধীরে জয়ের পথে নিয়ে যান। অবিচ্ছিন্ন থেকে জুটিতে তারা ৯৬ রান যোগ করেন ১২২ বলে। ম্যাথিউস ৫৭ বলে ৫২ ও কুশাল মেন্ডিস ৭৪ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। চার মেরে দলের জয়সূচক রান করার পাশাপাশি নিজের হাফসেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন ম্যাথিউস। উইকেট মন্থর হওয়ার কারণে এ দিন বাংলাদেশ সেরা একাদশে রুবেলকে বাদ দিয়ে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলকে দলে নিয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনো ফায়দা হয়নি। যদিও তাইজুল নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। মোস্তাফিজ ২ উইকেট নিলেও ৮ ওভারে রান খরচ করেন ৫০। মিরাজ ১০ ওভারে ৫১ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

Please follow and like us:

About বি-বার্তা

Read All Posts By বি-বার্তা